নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী ভারতীয় মুসলিমরা

ভারতের সাধারণ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে ভোটের হিসাব। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশটিতে বরাবরই মুসলিম ভোটাররা ভোটের ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হন। নানা কারণে এতদিন মুসলমানরা শিক্ষা ও চাকুরিতে পিছিয়ে থাকলেও, এবার ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে এসে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেদের উন্নতি চান তারা। নতুন সরকার এই বিষয়গুলোতে জোর দেবে বলেও আশা তাদের। 

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশটিতে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে মাত্র ১৪ দশমিক ২ ভাগ মুসলিম।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, সব ধর্মের নাগরিকদেরই সমান অধিকার পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা, নানা ক্ষেত্রেই মুসলিমরা বেশ পিছিয়ে।

অভিযোগ আছে, শুধু বর্তমান বিজেপি সরকারই নয়, বিগত কোন সরকারই এই সম্প্রদায়ের উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের দেখা হয়েছে ভোটব্যাংক হিসেবেই। তাই এবার নির্বাচনের আগে, ভারতীয় মুসলিমদের দাবি, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতই, মূল্যায়ন করা হোক তাদের। দেয়া হোক সংবিধান অনুসারে সম-মর্যাদা।

মুসলমানরা ভারতে উপেক্ষিত বলে মনে করেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। তাদের অভিযোগ, ‘ভারতে মুসলিমরা পিছিয়ে রয়েছে এর অন্যতম প্রধান কারণ তারা কম শিক্ষিত। যারাই ক্ষমতায় এসেছে ভোটের পরই ভুলে গেছে আমাদের দেযা প্রতিশ্রুতির কথা। এবার যে দলই সরকার গঠন করুক, মুসলমানদের শিক্ষার দিকে তাদের নজর দেয়া উচিত।’  

ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের বরাবরের অভিযোগ, মোদি ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়াচ্ছেন। এমনকি ভারত দেশটি কেবল হিন্দুদের, এমন বোঝাতে স্কুলের পাঠ্য বইগুলোও সেভাবে বদলে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায়, মুসলমানরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে আসতে পারবেন তারা।

সমান সুযোগ চেয়ে ভারতের মুসলমানদের দাবী, ‘মুসলিম বলে আমরা শিক্ষা এবং চাকুরি খাতে কোন বাড়তি সুবিধা চাই না। সামন সুযোগ দিলে আমরা মুসলিম পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারি।’ 

ভারতে লোকসভা নির্বাচন শুরু হবে ১১ই এপ্রিল। সাত ধাপে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন শেষ হবে আগামী ১৯শে মে। আর ফল ঘোষণা ২৩শে মে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: