নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করলো বিজেপি

লোকসভা নির্বাচন শুরুর শেষ মুহূর্তে এসে ইশতেহার প্রকাশ করলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আগামী ১১ই এপ্রিল  সাত দফা নির্বাচনে প্রথম দফা আনুষ্ঠানের মাত্র তিনি দিন আগে ইশতেহার ঘোষণা করলো প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদির দল।

সোমবার ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি’র সভাপতি অমিত শাহসহ দলের অন্যান্য নেতারা। এনডিটিভির জানায়।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এই ইশতেহারকে ‘সংকল্প পত্র’ বলছে বিজেপি। আর এ সংকল্প পত্রে ৭৫ দফা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করা হয়েছে যা ভারতের জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে মনে করেন সভাপতি অমিত শাহ। 

কৃষকদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিশেষ ভাবে জোর দেয়া হয়েছে নির্বাচনি ইশতেহারে। ‘কিষান সন্মান নিধি’ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি কৃষককে বার্ষিক ৬ হাজার রুপি আয় সহায়তা প্রদান। ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুন করা। ৬০ বছর বয়সী দরিদ্র এবং প্রান্তিক চাষীদের সামাজিক নিরাপত্তায় আবসর ভাতা প্রদান।

বিজেপি’র ইশতেহারের আরও যে বিষয় গুলো গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলো হলো-  

২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহে একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা। ২০২০ সালের মধ্যে সবাইকে গৃহের নিশ্চয়তা।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টরালেন্স নীতি গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে স্বাধীনতা দেওয়া।  

সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক আস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত করে প্রতিরোধ ক্ষমাতা বৃদ্ধি করা। জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখের দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন করা।

দেশের উত্তর-পূর্ব প্রদেশ গুলোতে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। ‘ভারতের অভ্যন্তরীন সুরক্ষা সৃষ্টি’ বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি।   

ইতিমধ্যে বামপন্থী উগ্রবাদীদের নির্মূলে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তারপরও আগামী পাঁচ বছরে বামপন্থী উগ্রবাদীদের নির্মূলে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রূতি

২০২২ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে উচ্চ গতি সম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। গ্রামাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য , বাজারের সাথে সংযোগ সৃষ্টিতে গ্রাম্য সড়ক উন্নয়ন কর্মসূচি।

২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারতে আয় ৫ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার করার প্রতিশ্রুতি। জিএসটি প্রক্রিয়া সহজতর করতে সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনায় বসা। অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৪ সাল নাগাদ ১০০ লাখ রুপি পুঁজি বিনিয়োগ করা।

গত নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৌহার্দপূর্ন সম্পর্কের মধ্যদিয়ে যতদ্রুত সম্ভব রাম মন্দির পুননির্মানের বিকল্প সকল উপায় বের করা। 

এছাড়া আ্গামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৬০ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক এবং ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সকল মহাসড়কের দৈর্ঘ্য দ্বিগুন করা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিমান বন্দরের সংখ্যা দ্বিগুন করা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: