ছয় ঘণ্টার গণঅনশনে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

বিএনপি চেয়ারপার্সন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে ছয় ঘণ্টার গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। আজ রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপি ও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গণঅনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তাঁকে মুক্ত করতে যে আন্দোলন প্রয়োজন অবিলম্বে সে আন্দোলন করতে হবে।’ এ সময়, বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘প্যারোল নয়, জামিন পাওয়া খালেদা জিয়ার অধিকার।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আত্মবিশ্বাসে ভর করে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ালে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।’ আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবেনা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, রাজপথে আন্দোলনের ওপর গুরত্বারোপ করেন।

তবে, কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতারা বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ অনশন কর্মসূচি চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

গণঅনশন কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা অংশ নেন। এতে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ নেতা আহমেদ আজম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিলকিস জাহান শিরিন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গৌতম চক্রবর্তী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান শামীম, শফিউল বারী বাবু, মোরতাজুল করীম বাদরু মাদুর।

এ অনশন কর্মসূচি উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের বাইরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গেল ১লা এপ্রিল সোমবার, নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের অস্থায়ী বিশেষ কারাগার থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ হাসপাতালে নেয়া হয়।রাখা হয় কেবিন ব্লকের ৬২১ ও ৬২২ নম্বর কক্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: