‘ব্যাংকঋণ জটিলতা এসএমই খাতের বড় বাধা’

ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জটিলতা এবং উচ্চ সুদহারের কারণে বিকশিত হতে পারছেনা দেশের এসএমই খাত। সেই সঙ্গে দেশে ও দেশের বাইরে পণ্যের প্রচার ও প্রসারেও নেই কোনো কার্যকরি সুযোগ। ফলে ব্যবসায়িক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও অনেক এসএমই উদ্যোগ বছরের পর বছর থেকে যাচ্ছে এসএমই হয়েই। আর বড় শিল্পে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন থেকে যাচ্ছে অধরাই।

সাখায়াত হোসেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করেছেন চামড়া ও চামড়া জাতপণ্য খাতে। সেই অভিজ্ঞতা এবং চাকরি জীবনের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে পুঁজি করে ২০১৩ সালে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সামান্য মূলধন নিয়ে শুরু করা তার প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল লেদারের মূলধন এখন সোয়া কোটি টাকারও বেশি।

ভার্সেটাইল লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সাখায়াত হোসেন বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি যদি চাকরি করা যায়, তাহলে কারিগরি দিকগুলো সম্পর্কে আরও ভালো জানা যায়। সেই কারণে আমি সেল ইন্ডিয়া থেকে টেনারিতে যোগ দেই। আর ২০১৩ সাল থেকেই আমি টুকটাক ব্যবসায় শুরু করি।’

উদ্যোক্তা হওয়ার দৌড়ে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এলেও কখনো ব্যাংকের দারস্থ হননি তিনি। মোহাম্মদ সাখায়াত হোসেন বলেন, ‘প্রায় সব ব্যাংকেই বলা হয় যে, আপনারা মর্টগেজ কি দিতে পারবেন? বা প্রোপার্টি কি দিতে পারবেন? এ জায়গাটাতে আমরা প্রতিবন্ধকতার শিকার হই ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে।’

একই রকম অভিজ্ঞতা আরেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বেলাল হোসেনের। গ্রীণ টেক্সচার প্রধান নির্বাহী এস এম বেলাল হোসেন বলেন, ‘অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আমাকে আসতে হয়েছে। তাদের কাছে অনেক আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র দেয়ার পরও সেটাকে তারা সহজভাবে নিতে চায় না। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে যে সব অফিসাররা আছেন, তাদের বেশির ভাগ অফিসারেরই বাস্তব সম্পর্কে ধারণা অনেক কম। তারা অনেক কিছুই বোঝেন না।’

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই আছেন যাদের পণ্যের চাহিদা আছে বহিঃবিশ্বে।

কনসলিডেটেড ট্রেডিং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই লেদারগুলো বিশ্ব বাজারের প্রতিযোতিতায় টিকে থাকার মতো। বিশ্ব মানের বিচারে আমাদের লেদারের মান অনেক ভালো। তবে এটিকে এগিয়ে নিতে চাইলে, একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আর মেধা দিয়ে কাজ করলে এর খাতে উন্নতি আনা সম্ভব।’

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজি সংকট সমাধানে নানা উদ্যোগও কার্যকর হচ্ছে না।

এসএমই ফাউন্ডেশন জেনারেল ম্যানেজার নাজিম হাসান সাত্তার বলেন, ‘প্রতিবন্ধকতাতো আছেই কারণ সব উদ্যোক্তারাই কিন্তু অর্থায়ন পাচ্ছে না। ব্যাংকারদের মধ্যেও আবার কিছু ব্যাপার আছে। তাদের একটা নিত্য ধারণা আছে যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিলেই সেটা খেলাপী করবে। এটা কিন্তু সর্বাংশে একদম সত্যি না।’

এ অবস্থায় এসএমই খাতের অর্থায়ণ জটিলতা কমাতে ব্যাংকগুলোকে আরো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বেধে দেয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নজর দারি প্রত্যাশা করেন উদ্যোক্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: