ডাকসুর অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ আজ

প্রভোস্ট কমিটির বৈঠকে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু’র নতুন নেতৃত্বের অভিষেকের দিন ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপাচার্যের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে, পুনর্নির্বাচন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আজ উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে পুনঃতফসিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরু।

এর আগে সকালে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ ও মামলা প্রত্যাহারসহ ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আজকের কর্মসূচি দেন প্রগতিশীল ছাত্রঐক্যের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। বাকী চারটি প্যানেলের পক্ষে একই কর্মসূচি দেন স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান।

এদিকে, ডাকসুর নতুন নেতৃত্বের দায়িত্বগ্রহনের সব প্রস্তুতির সম্পন্ন হয়েছে। ভিপি,জিএস,এজিএসসহ তিন জনের কক্ষের চাবি বুঝিয়ে দেয়ার পাশপাশি ভবনটি সাজানো হয়েছে নতুন করে। অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতার।  ছাত্রলীগ মনোনীতরা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে শিক্ষার্থী কল্যাণে দ্রুত কাজ শুরুর কথা জানালেও দোটনায় ভিপি নুরুল হক।

২৮ বছরের আড়মোড়া ভেঙ্গে নতুন সাজে সেজে উঠেছে ডাকসু ভবন ।দেয়ালে নতুন রংয়ের প্রলেপ পড়েছে, ধুলাবালি ঝেড়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে ডাকসু ভবনের দোতলার সাতটি কক্ষ। পুরোনো আসবাপত্র সরিয়ে নতুন ফ্যান-লাইট-চেয়ার শোভা পাচ্ছে ভিপি, জিএস, এজিএস, সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক, সেমিনার, গেমস আর সম্পাদক-সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষে ।  

ডাকসু প্রথা অনুযায়ী এখন শুধু অপেক্ষা অভিষেক অনুষ্ঠানের। কক্ষের চাবি বুঝে নিয়েছেন  নুরুল হক। তবে দায়িত্ব বুঝে নিবেন কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানাননি ডাকসুর নতুন ভিপি। দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, ‘আমি এখনও দায়িত্ব নেইনি। সেটা পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। আমরা যারা এক সাথে অন্দোলন করছি, তাদের সাথে অলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব; আমি দায়িত্ব নেব কি না।’

এদিকে আনুষ্ঠানিতকার আড়ম্বরতায় নয়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্বাসী ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে বিজয়ী এজিএস। এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘অভিষেক অনুষ্ঠানের একটি আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি দ্রুততার সঙ্গে সেটি যেন সম্পন্ন করে ফেলে। কারণ আরম্বরে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা কাজে বিশ্বাস করি।’  

২৮ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারো কর্মচাঞ্জল্য ফিরে পাবে ডাকসু, প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: