স্থগিতের ৫ বছর পর জিএসপি ফিরে পাওয়ার আশা

স্থগিত হবার ৫ বছর পর, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাবার আশা করছে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।  সম্প্রতি পোশাকমালিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আশ্বাসে, এ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।  জিএসপি ফিরে পাবার আবেদন জানাতে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়কে শিগগিরই আহ্বান জানাবে বিজিএমইএ।  বাণিজ্য বিশ্লেষকরা জিএসপি পুর্নবহাল করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের সম্ভাব্য শর্ত মানার পরামর্শ দিয়েছেন।

একই পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে বাংলাদেশকে গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক গুণতে হয়।  প্রতিযোগী ভিয়েতনাম দেয় এর অর্ধেক।  আর ভারত মাত্র আড়াই শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধা না পেলেও, পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের অজুহাতেই ২০১৩তে জিএসপি স্থগিত করেছিলো ওবামা প্রশাসন।

বিকেএমইএ সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ‘২০১৩ সালে ২৮ মার্চ আমরা ইউএসটিআর-এ জিএসপি’র শুনানিতে গিয়েছিলাম। সেই বছর আমাদের শুনানিটা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তিতে রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনা সব কিছু থমকে দেয়। এরপরও আমরা অনেক কিছুই করেছি। তাদের প্রত্যশা অনুযায়ী সমস্ত কিছুই আমরা করেছি। কিন্তু তারপরও জিএসপি আসেনি এবং তারমানে সেটা আসবে না।’

তবে গত সপ্তাহে বিজিএমইতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার আশ্বাস দিয়েছেন জিএসপি বিবেচনা করে দেখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।  সেজন্য নতুন করে বাংলাদেশকে আবেদন করতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘আমেরিকার অ্যাম্বাসেডরকে আমি যেটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, আমেরিকা থেকে তুলা বাংলাদেশে এনে প্রস্তুতের পর যদি রপ্তানি করা হয়, তাহলে কি কি সুবিধা দিতে পারবে? তখন অ্যাম্বাসেডর বলেন, গত দুই বছরে কোনও রিভিউ করা হয় নি। এখন এটা শুরু করা প্রয়োজন। আমেরিকার সঙ্গে একটা কার্যকর আলাপ আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের করা উচিত।’

যুক্তরাস্ট্র থেকে কাঁচামাল কিনতে হলেও, তা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে বলেই মনে করছেন পোশাক শিল্পের গবেষকরা।

সিপিডি গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আগে যেভাবে জিএসপি ছিলো, সেভাবে না। এর সঙ্গে আমাদের সম্ভাব্য আর কি কি পণ্য এটির মধ্যে যুক্ত হতে পারে সেগুলোকে এখানে নিয়ে আসা। পাশাপাশি আমেরিকার পক্ষ থেকে যদি কোনও শর্তের বিষয় থাকে সেটি যদি যৌক্তিক হয়, তাহলে সেই যৌক্তিক শর্তগুলোকেও এখানে বিবেচনায় নিয়ে আলাপ আলোচনাগুলো করা।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি বাবদ গত বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার শুল্ক গুণতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: