বিচ্ছন্ন কিছু ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

দুটি হলে অনিয়ম, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা। অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল, বামজোট ও স্বতন্ত্রসহ ৭টি প্যানেল। এদিকে, পুনঃভোটের দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভোট বর্জনকারী প্যানেলের চার নেতা।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের ১৬ টিতেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিভিন্ন হল কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীরা লম্বা লাইনে দাঁড়ান সকাল ৭টা থেকেই।

তবে কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তায় ভরা ভোটের চিহ্ন দেয়া ব্যালট পেপার পাওয়ার ঘটনায় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ। আর রোকেয়া হলে ব্যালট বাক্স সিলগালা করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রভোস্টের বাদানুবাদের কারণে ভোট শুরু হয় সকাল ৯ টায়। পরে হলের ছাত্রী সংসদ কক্ষে খালি ব্যালট পাওয়া গেলে আবারও রোকেয়া হলের ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে, রবিবার বিকেলে ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ভোট নেয়ার ঘোষণা দেন রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদা। ভোটার উপস্থিত থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও ভোট নেয়া এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহম্মদ সামাদ।

এদিকে, ভোটে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল, বামজোটসহ ৭টি প্যানেল। নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেয় কয়েকটি সংগঠন। সেই সঙ্গে, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, ছাত্রদল, বামজোট ও স্বতন্ত্রসহ ৭টি প্যানেলের ভোট বর্জনকারী নেতারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশ নেন ভোট বর্জনকারী প্যানেলের চার নেতা। এ সময়, তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তারা লিখিত অভিযোগ করেন।

শান্তিপুর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের ভোট হয়েছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, ‘অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: