অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে; উপাচার্য

ডাকসু নির্বাচন সার্বিকভাবে ডাকসু ভোট সুষ্ঠু হয়েছে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার বিকেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এ সময় ‘উৎসবমুখর পরিবেশে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটের অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা আমাদের কুয়েত মৈত্রী হলে ঘটেছিল। যেই মুহুর্তে আমি জেনেছি তাৎক্ষণিকভাবেই শক্ত অবস্থান নিয়েছি। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি খতিয়ে দেখবে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিল। যারাই জড়িত থাকুক না কেনো, নীতি বহির্ভুত এই রকম অনৈতিক কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এ ব্যাপারে আমরা কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বাক্সভর্তি ভোট দেয়া ব্যালট পেপার পাওয়ার দায়ে কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট শবনম জাহানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এই অনিয়মের ব্যাপারে উপ উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  

এর আগে, সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার দেখতে চান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ব্যালট পেপার দেখাতে অস্বীকার করে কর্তৃপক্ষ। পরে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ব্যালটবাক্স খুলতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। সেই সময় তিনটি ব্যালটবাক্সে ভোট দেয়া ব্যালট দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। এ সময় ভোট স্থগিতের দাবিতে ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে ব্যবস্থাপনা বিভাগের এই শিক্ষককে সরিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীনকে কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রধান রিটার্নিং এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হলো ঘটনাস্থল। কিন্তু এটা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেও এক ধরনের ভাবমূর্তীতে আঘাত। আমরা অত্যন্ত বিস্মিত, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে- এটা আমরা ভাবিনি। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থেকে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, এ পরিস্থিতে আমি কি বলবো তা বলার ভাষা আমার নেই।‘

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী জানান, ‘প্রশাসনিকভাবে কেউ এই কাজটি করেছে, সেটি বের করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি কথা বলে দেখেছি, সবাই ভোটগ্রহণের পক্ষপাতি। একটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি কি হতে পারে সেটি নিয়ে আলোচনা করতে চাই আমরা।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: