সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে, দুর্নীতি কমেনি

বেতন প্রায় দ্বিগুণ করা হলেও সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি কমেনি। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ আরও বেড়েছে। ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংক, ওয়াসা, কাস্টমস এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই অভিযোগ পড়ছে কমিশনে।

ঘুষের টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের হাতে ধরা পড়েন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন আহমেদ। গত দশ-ই জানুয়ারি গোপণ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ঘুষ ও বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে গত তিনবছরে দুদকের হাতে আটক হয়েছেন ৬৩৭জন। যাদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালে দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা হয় ১২ হাজার ৫০০টি, ২০১৫ সালে ১০ হাজার ৪১৫, ২০১৬ সালে ১৩ হাজার, ২০১৭ সালে ১৭ হাজার ৯৮৩, ২০১৮ সালে ১৭ হাজার অভিযোগ জমা হয়। এসব অভিযোগের প্রায় অর্ধেকই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া, ২০১৭ সালের ২৭শে জুলাই দুদকের হটলাইন চালু হওয়ার পর, এ পর্যন্ত ফোনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

দুদকের নথিপত্র বলছে, সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে ভূমি প্রশাসন, আর্থিক খাত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পাসপোর্ট, ভূমি প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, কাস্টমস এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে অফিসে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দুর্নীতি কমছে না বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই ধরনের খাতগুলোকে আগে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেখানে চুনপুটিকে ধরার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই।’

সরকারি চাকুরিজীবীদের জীবনমানে উন্নতি ও দুর্নীতি কমাতে বেতন প্রায় দ্বিগুণ করে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয় যা ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই কার্যকর হয়। তারপরও যারা দুর্নীতি করছেন তারা স্বভাব দোষেই করছেন বলে মনে করেন দুদক কমিশনার।

দুর্নীতি দমন কমিশন কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘এক’শ তেইশ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বিষয়টি যদি অন্তত মনে রাখা যেত, তাহলে আমার মনে হয় পাঁচ বছরে দুর্নীতি দেশ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকল সরকারি দপ্তরের ব্যপারেই আমাদের নজরদারি আছে। দুর্নীতি করে এই দেশে কেউ পার পেয়ে যাবে এটা দুর্নীতি দমন কমিশন মনে করে না।’

সরকারি দপ্তরগুলোতে দুদকের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে।

%d bloggers like this: