একুশের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই ‘ভাষা আন্দোলন ও সাহিত্য জাদুঘর’

একুশের চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখতে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ভাষা আন্দোলন এবং সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর’। গবেষণা ও প্রকাশনার মননশীল চর্চার পাশাপাশি এসব জাদুঘর বাঙালি পাঠকের জানার পরিধিকে আরও শানিত করছে। গ্রন্থমেলায় এসে অনেক পাঠক ঘুরে আসেন এই দুই জাদুঘরে।

বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলা, যেখানে স্থাপন করা হয়েছে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর। ২০১০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন জাদুঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, সংবাদপত্র, স্মারকপত্র, ব্যঙ্গচিত্র, চিঠি, প্রচারপত্র, পুস্তক-পুস্তিকার প্রচ্ছদ এবং ভাষা শহীদদের স্মারকচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা প্রবীণ এক দর্শনার্থী জানান, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পুনরায় দেখতে পেয়ে তিনি খুব আনন্দিত। আবার অনেকেই নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোরদের ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে যাদুঘরে এনেছেন।

আর বর্ধমান হাউসের নিচতলায় রয়েছে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর। যেখানে বাংলা কবি ও সাহিত্যের রয়েছে বড় সংগ্রহশালা।

এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক সায়েরা হাবীব জানান, ‘লেখক জাদুঘরে এলে আমাদের দেশের সাহিত্য সম্পর্কে একটা ধারণা হবে। ভাষা আন্দোলন জাদুঘরকে অনন্য একটি জাদুঘর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের কোথাও ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো জাদুঘর নেই। এখানে এলে দর্শনার্থীরা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিক একটি ধারণা পাবে বলেও জানান।’

বর্তমানে বর্ধমান হাউজের ছয়টি কক্ষ নিয়ে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে।

%d bloggers like this: