ঢিমেতালে চলছে বিস্ফোরক মামলার রায়

২০১৭ সালে পিলখানা হত্যা মামলার রায় হলেও এখনো মেলেনি রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি। আর ঢিমেতালে চলছে বিস্ফোরক মামলার বিচার। গত ১০ বছরে স্বাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। সিআইডি তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে আর বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

২০১৭ সালের নভেম্বরে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বিচার আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় ১৫২ জনকে। আপিলে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। বাকি ৮ জনকে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেয়া হয়েছে এবং একজন মারা গেছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রয়েছে। বাকি ১২ জন খালাস পেয়েছেন ও ২ জন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়া যায়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘শতাধিক লোকের যেখানে ফাঁসি হয়েছে, সে মামলার দুই বছর ধরে শুনানি হয়েছে, সে মামলার রায়ের জন্য বিচারপতিরা যদি সময় নেন, সেটা খুবই স্বাভাবিক। আশাকরি শিগগিরই এই মামলার রায় বেরোবে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দুই মামলার আসামি ও সাক্ষীদের সংখ্যা একই। রায়ের কপি না পাওয়ায় রাস্ট্রপক্ষ যেমন আপিল বিভাগে যেতে পারছে না তেমনি খালাস পাওয়া তিনশ’ জনও ছাড়া পাচ্ছে না।

আসামী পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ, হত্যা মামলাটি যেটা আছে সেটিকে তারা প্রাধান্য দিয়ে; সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়েছে। কিন্তু বিস্ফোরক মামলায় তারা সেভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপণ করেনি। যারা খালাস পেয়ে গেছে; হত্যা মামলা থেকে, তাদের রায়ের কপিটা পাওয়া গেলে, আমরা সেটা দেখিয়ে, বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় আমরা যদি জামিন চাইতে পারতাম, তাহলে সেখান থেকে জামিন পাওয়ার একটা সম্ভবনা আছে। ফলে নির্দোশ মানুষ যে গুলো তারা অধিকাংশ বের হয়ে যেতে পারতো।’

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।

%d bloggers like this: