হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা

প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা না থাকায় জয়পুরহাটে হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা।  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সাদ্রী ভাষার বই বিনামূল্যে দেওয়া হলেও শিক্ষক না থাকায় শিশুরা রপ্ত করতে পারছে না এই ভাষা।  তবে সরকার উদ্যোগ নিলেই এ ভাষা সংরক্ষণ করা সম্ভব দাবি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষকদের।

সাঁওতাল, মাহাতো, পাহান ও ওঁড়াওসহ ১৩ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় এক লাখ মানুষ বাস করেন জয়পুরহাট জেলায়। এদের মধ্যে অধিকাংশই কথা বলেন সাদ্রী ভাষায়।  যা বিকশিত হয়েছে প্রায় হাজার বছর ধরে।

ঘরে-বাড়িতে চর্চা থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তা না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা ভুলতে বসেছে তাদের মাতৃভাষা।  বাধ্য হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সবক্ষেত্রেই বাংলা ভাষা ব্যবহার করছে তারা।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে, শিশুদের মাঝে সাদ্রী ভাষার চর্চা বাড়বে বলে মনে করেন শিক্ষকরা।

পাঁচবিবি কাঁশপুর আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মুনিবালা মাহাতো জানান, ‘ছেলেমেয়েরা জন্মের পর থেকেই বাংলা ভাষার ব্যবহার করে। এছাড়া অন্যান্য জায়গায় গেলেও বাংলা ভাষার ব্যবহার করতে হয় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে।’

পাঁচবিবি কাঁশপুর আদিবাসী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক চিত্ত কুমার মাহাতো বলেন, ‘আমাদের যে পরবর্তি প্রজন্ম আসছে, তাদের মধ্যে এই ভাষাটির অস্তিত্ব থাকবেনা বলে মনে হচ্ছে।’

সহকারী শিক্ষক রতন মাহাতো বলেন, ‘এই ভাষাটি টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।’

নিয়োগের পাশাপাশি সাদ্রী ভাষায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবির জানান, ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকার কারণে ছাত্রছাত্রিরা সেই সুযোগটি পাচ্ছে না। এই ভাষাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

সাদ্রী ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নেবে সরকার এমন প্রত্যাশা জয়পুরহাটের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের।

%d bloggers like this: