প্রায় স্থবির শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর

ভারত থেকে পাথর আর কয়লা আসা বন্ধ থাকায়, প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থল বন্দর। বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। কয়েক কোটি টাকার ঋণপত্র খুলে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। তবে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ভুটান-ভারত-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় বাণিজ্য সমঝোতা চুক্তি হলে আবারও ঘুড়ে দাঁড়াবে নাকুগায়ও স্থল বন্দর।

মুলত ভুটানই সচল রেখেছে নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে। কিন্তু বাংলাদেশে আসার আগে ভারতীয় ভুখন্ডের বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দেয়াসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয় ভুটানিদের।

সব হয়রানি সহ্য করে আসা এসব পাথরই এখন উপার্জনের একমাত্র সম্বল শ্রমিকদের।  অথচ, আগে কয়লা আর পাথর-দুইই আসতো ভারত থেকে।  কিন্তু পরিবেশ বাদীদের মামলায় ভারতীয় আদালত কয়লা উত্তোলন ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করে।  

হুট করেই ভারতের পাথর-কয়লা আসা বন্ধ হয়ে কোটি টাকা আটকে গেছে আমদানিকারকদের। ২০১৫ সালের জুনে যখন স্থলবন্দরের উদ্বোধন হয়, তখন থেকেই ১৯ পণ্যের আমদানি অনুমোদন ছিলো। 

কিন্তু পাথর আর কয়লা ছাড়া পাশের রাজ্য মেঘালয়ে বাকি পণ্যগুলো সহজলভ্য নয়।  নাকুঁগাও স্থলবন্দরকে সচল করতে মেঘালয়ের আমদানিযোগ্য পণ্যগুলোকে অনুমোদন দেয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের।

নাকুগাঁও বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘অন্যান্য পণ্য আমদানির যদি অনুমতি থাকতো তবে কোন না কোন পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা যেত। মেঘালয়ে প্রচুর সুপারি হয় আমরা সুপারি, হলুদ আমদানি করতে পারতাম। আসাম থেকে শুঁটকি আমদানি করা যেত।’ 
 
নতুন পণ্য আমদানির অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার রাজস্ব বোর্ডের।  তাই স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সংস্থাটিকে বাড়তি পণ্য আমদানির সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভুটান ভারত বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির চিন্তা করছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী জানান, ‘আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি একটা রুট ওখানে করার জন্য। বিষয়টির একটা সমীক্ষা হয়তো হবে সামনে। ভারতের পক্ষ থেকেও একটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। সমীক্ষাটা হয়ে যাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২০১৭-১৮ অর্থবছরে, এ স্থলবন্দর থেকে মাত্র ১ কোটি ৫৬ লক্ষ ২০ হাজার ৫শ’ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।  যা আগের বছরে ছিলো প্রায় দ্বিগুণ।  ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

%d bloggers like this: