ইউডিসিতে উপকৃত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ‘ইউডিসি’গুলো। এখন প্রায় সাড়ে চারহাজার ‘ইউডিসি’ থেকে দেয়া হচ্ছে ১১৬ ধরনের সেবা।

মানিকগঞ্জের ফিরোজা বেগম। পল্লী বিদ্যুতের বিল দিতে তাকে যেতে হত। এতদূরের পথ আসা যাওয়া করার ঝক্কির পাশাপাশি খরচ হতো বাড়তি অর্থ। এখন বাড়ির পাশেই ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে খুব সহজেই বিদ্যুৎ বিল দিতে পারেন তিনি।

ফিরোজা বেগমের মত গ্রামাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে হাতের নাগালেই বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে এ উদ্যোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জনপ্রতিনিধিরা।

গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফছার উদ্দিন সরকার জানান, ‘আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাবাংলা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে।’

তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় ঘোষণা দিয়েছে তখন অনেকেই এটা নিয়ে হাসাহাসি করেছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তব।’

ইউডিসির উল্লেখযোগ্য সরকারি সেবার মধ্যে রয়েছে জমির পর্চা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফল, অনলাইনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ ইত্যাদি। বেসরকারি সেবার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, চাকরির তথ্য, ভিসা আবেদন, ভিডিও কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি।

এছাড়া ৪৩৮টি ই-কমার্স সাইট যুক্ত হয়েছে ইউডিসিতে। ফলে এখন গ্রামে থেকেই শহরের পণ্য যেমন কেনা যাচ্ছে তেমনি নিজেদের তৈরি হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রিও করতে পারছেন গ্রামের মানুষ।

প্রতিটি ইউডিসিতে একজন নারী ও একজন পুরুষ উদ্যোক্তা কাজ করেন। কিছু ইউডিসিতে আছেন সহকারীও। সব মিলিয়ে সারাদেশে প্রায় দশ হাজার উদ্যোক্তা কাজ করছেন। যাদের ১০ শতাংশের মাসিক আয় পাঁচ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকার ওপরে আয় করেন ৭০-৮০ শতাংশ উদ্যোক্তা। আর ৫ শতাংশ উদ্যোক্তার আয় মাসে লাখের ওপরে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠান টিআইবি’র প্রতিবেদনেও প্রশংসা করা হয়েছে সরকারি এ উদ্যোগের। টিআইবি বলছে, ইউডিসিতে ডিজিটাল সেবাদান কার্যক্রম শুরুর পরে সেবা গ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়ায় নিয়ম বহির্ভূত অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি কমেছে।

ইউডিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগসহ সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই ক্ষেত্রটি হয়ে উঠবে আরও সম্ভাবনাময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: