অধ্যক্ষসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন অরিত্রীর বাবা

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে অধ্যক্ষসহ তিনজনের নামে মামলা দায়ের করেছেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। মঙ্গলবার, রাত ১০ টার দিকে রাজধানীর পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা কে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতি শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়। এছাড়া স্বপ্রণোদিত এক আদেশে ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার দুপুরে, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।

শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এ দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুই কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে রবিবার সকালে, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পরীক্ষার হলে বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী মোবাইল ফোনসহ ধরা পড়ায়, তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। সোমবার সকালে আরেকটি পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে, তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

অরিত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমা চেয়ে পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করলে অরিত্রী ও তার বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে অফিসকক্ষ থেকে বের করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস। অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাইলাম, এটা তো বার্ষিক পরীক্ষা আর আগামি বছর আমার মেয়ে এসএসসি পরিক্ষা দেবে। কিন্তু তারা বললো, আগামীকাল এসে টিসি নিয়ে যাবেন। আমি আবারও প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে আমাকে বেরিয়ে যেতে বলেন।’

অরিত্রী বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করে। পরে তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। প্রিন্সিপালসহ কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন অভিভাবকেরা।

অরিত্রীর পরিবার ও স্কুলের গভর্নিং কমিটির পক্ষ থেকে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে তখন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী আইনের আশ্রয় নেয়ার কথাও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: